Мы используем файлы cookie.
Продолжая использовать сайт, вы даете свое согласие на работу с этими файлами.

বন্যপ্রাণী

Подписчиков: 0, рейтинг: 0

বন্যপ্রাণ (ইংরেজি: Wildlife) ঐতিহ্যগতভাবে অ-গৃহপালিত প্রাণী প্রজাতিকে উল্লেখ করা হয়, কিন্তু বর্তমানে এটি উদ্ভিদ, ছত্রাক এবং অন্যান্য প্রাণসত্তাকে অন্তর্ভুক্ত করে যেগুলো মানুষ দ্বারা প্রভাবিত (চাষাবাদ/বংশবিস্তার) করা ছাড়াই বন্য এলাকায় জন্মায় বা বেঁচে থাকে। সভ্যতার একদম প্রথম থেকেই মানুষ বিভিন্ন উপায়ে এবং বিভিন্ন কারনে নিকে বন্যপ্রাণী থেকে দূরে রেখেছে। যদিও কিছু প্রাণী নিজেদের লোকালয়ের সাথে অভ্যস্ত করে নিতে সক্ষম হয়েছে। যেমন, গৃহপালিত কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি। তাছাড়া কিছু প্রাণীকে বিভিন্ন ধর্মে পবিত্র এবং উপাসক হিসাবেও ঘোষণা দিয়েছে বহুকাল আগে থেকেই। অন্যদিকে নিত্যদিন বন ধংসের কারনে এদের বিচরণক্ষেত্র কমে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এ নিয়ে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই উৎকণ্ঠা বিরাজমান।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ডের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭০ এবং ২০১৪ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ৫২% হ্রাস পেয়েছে

ঔষধ, খাবার এবং প্রতিপালনে বন্যপ্রাণীর চাহিদা

খাবার হিসাবে

থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই বাজারের দৃশ্য এটি। গামলা ভর্তি ব্যাঙ নিয়ে পসরা সাজিয়ে রেখেছেন এক বিক্রেতা। স্ট্রে-ফ্রাই এবং থাই তরকারিতে ব্যাঙের মাংস খুবই জনপ্রিয়।

প্রস্তর যুগের মানুষ, শিকার করে বেঁচে থাকা আদিম মানুষ সবাই বন্যপ্রাণী বা বন্য প্রকৃতির নির্ভরশীল ছিল, বিশেষত খাদ্য হিসাবে গাছ এবং পশুপাখি ছিল অন্যতম। মানুষের শিকারের দরুন কিছু কিছু প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্তও হয়ে গেছে। এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে, খাবারের জন্য, মানুষ শিকার করে এবং মাছ ধরে। কিছু দেশে আবার এই শিকার আর মাছ ধরাকে বিনোদন হিসাবে গন্য করা হয়। বন্যপ্রাণী শিকার করা সংক্রান্ত একটি খেলা বেশ জনপ্রিয়। এর নাম বুশমেট, যদিও এটি কোনো ঐতিহ্যগত খেলা নয়। পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ঐতিহাসিক খাবার হিসাবে বন্যপ্রাণীর ব্যাপক চাহিদা আছে। যা খুব দ্রুত বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছি। অনেকক্ষেত্রেই এসব প্রাণী/মাছের মাংসকে যৌনদ্দীপক ওষুধ বা পানীয় বা খাবার হিসাবে গ্রহণ করা হয়। ওয়াইল্ডলাইফ ট্রেড মনিটরিং নেটয়ার্কের এক সংবাদে বলা হয়, ২০০৮ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার বন্যপ্রাণী ও জাতীয় উদ্যান অধিদপ্তর প্রায় ৯০০ টি অপহৃত এবং "পাচার করার জন্য প্রস্তুত" পেঁচা এবং অন্যান্য বিলুপ্ত বন্যজীব প্রজাতি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ধারণা করা হয় চীনের বন্যপ্রাণীর মাংসের জন্য প্রসিদ্ধ রেস্তরায়েই এগুলো ধরা হয়েছিল।. বেশিরভাগগুলি সিআইটিইএস (বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত কনভেনশন)এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে এই জাতীয় বাণিজ্যকে নিষিদ্ধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জীববিজ্ঞানী এবং লেখক স্যালি কিনিডেল, পিএইচডি ২০০৮ সালের নভেম্বরের একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও ধারণ করেন। যেখানে একটি মারমোসেটকে (বৃক্ষবাসী, বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণী) ১.৬০ ডলার (৫ পেরুভিয়ান)নে আমাজন নদীর অববাহিকার এক বাজারে বিক্রি করতে দেখা যায়। এছাড়া আমাজনের বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীকে নিত্যদিন খাবার হিসাবে খাওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে আছে কচ্ছপ, কচ্ছপের ডিম এনাকন্ডা সাপ, বিভিন্ন প্রজাতির হিরগিটি ইত্যাদি।

পোষা প্রাণী এবং ঔষধ হিসাবে

বিভিন্ন অবৈধ বাজারে বানর, তোতা সহ নানা ধরনের চোরাই পশুপাখি কেনাবেচা হয়। এসব বন্যপ্রাণী মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হয়। আমাজনের অন্যান্য প্রাণীর শরীরের বিভিন্ন অংশন ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এগুলির দাম মূলত কুসংস্কারের উপর নির্ভর করে।

বন্যজীবন ধ্বংস

মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ এর উপর ভিত্তি করে বানানো জনসংখ্যার জেনেটিক্স তথা মানব অভিবাসনের মানচিত্র

১৯৭০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০ শতাংশ স্তন্যপায়ী জীবজন্তু, পাখি, মাছ ও সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী ধ্বংসের পেছনে ভূমিকা রয়েছে মানুষের। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বন্যপ্রাণী ধ্বংস এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, মানব সভ্যতাও হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড ফান্ড ফর নেচার (ডব্লিউডব্লিউএফ) সম্প্রতি নতুন এ রিপোর্টে এ হুঁশিয়ারি জানায়। এ রিপোর্ট তৈরির কাজে বিশ্বের নানা প্রান্তের ৫৯ জন বিজ্ঞানী সহযোগিতা করেন। প্রতি দুই বছর অন্তর লিভিং প্লানেট রিপোর্ট নামে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গবেষণা পত্র প্রকাশ করে দ্য ডব্লিউডব্লিউএফ। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ও সংরক্ষণ বিষয়ে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে।

২০১৮ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হচ্ছে, বিশ্বের চার ভাগ অঞ্চলের মধ্যে মাত্র এক ভাগ অঞ্চলে মানবসৃষ্ট এ বিপর্যয় থেকে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদ রয়েছে। তা ছাড়া বাকি তিন ভাগে তাদের জীবন চরমভাবে সঙ্কটাপন্ন। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের দশ ভাগের মধ্যে নয় ভাগ অঞ্চল বন্যপ্রাণী বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে। নতুন এই রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বের মানুষের ক্রমবর্ধমান খাদ্য ও সম্পদ চাহিদার কারণে বন্যপ্রাণীদের জীবনধারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের এ ধারা তৈরি হতে সময় লেগেছিল শত শত কোটি বছর। মানবসমাজ পরিষ্কার বাতাস, পানিসহ সব কিছুর জন্যই এর ওপর নির্ভরশীল। ডব্লিউডব্লিউএফের অন্যতম নির্বাহী পরিচালক মাইক ব্যারেট বলেন, আমরা এখন একটি খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছি। যেভাবে বন্যপ্রাণীর ৬০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, তেমনটি যদি মানুষের ক্ষেত্রে ঘটত তাহলে উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপ, চীন ও ওশেনিয়া মহাদেশ মানবশূন্য হয়ে পড়ত। আমরা যা করছি, তার প্রতিচ্ছায়া আসলে এ-ই। জার্মানির পোটসড্যাম ইনস্টিটিউট ফর কাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক জোহান রকস্ট্রম বলেন, আমরা খুব দ্রুত প্রান্তসীমার দিকে ধাবিত হচ্ছি। এ অবস্থায়ও শুধু প্রতিবেশ ও জলবায়ুকে কেন্দ্র করেই আমরা মানুষের জন্য পৃথিবীতে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করতে পারি। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সভ্যতার শুরু থেকে এ পর্যন্ত মানুষের হাতে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ৮৩ শতাংশ এবং অর্ধেক গাছপালা ধ্বংস হয়েছে। যদি এর ধারাবাহিকতায় বন্যপরিবেশ ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে এটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন হবে ৫০-৭০ লাখ বছর। চার হাজার প্রজাতির ১৬ হাজার ৭০৪টি স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, মাছ, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে, ১৯৭০ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এসব প্রাণী ধ্বংসের হার ৬০ শতাংশ। চার বছর আগে যা ছিল ৫২ শতাংশ। ব্যারেট বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্মম সত্যটি হচ্ছে, বন্যপ্রাণী ধ্বংসের এ কাজটি চলছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ুবিষয়ক আরেক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক বব ওয়াটসন বলেন,

দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় বন্যপ্রাণীরা সবচেয়ে বেশি সঙ্কটের মুখে পড়েছে। বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে ১৯৭০ সালের তুলনায় ওই অঞ্চলে ৮৯ শতাংশ বন্যপ্রাণীর বিলুপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে প্রতি দুই মাসে বৃহত্তর লন্ডনের মতো বনাঞ্চল হ্রাস পাচ্ছে। রিপোর্ট বলছে, মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় শিকার স্বাদু পানির প্রাণীগুলো। এ ছাড়া বিভিন্ন নদী, লেকে বাঁধ ও ড্যাম নির্মাণের কারণ জলজপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

মিডিয়া জগতে বন্যপ্রাণী

বহু আগে থেকেই বন্যপ্রাণী মিডিয়া এবং ফটোগ্রাফারদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির উদ্যোগে ১৯৬৫ সাল থেকেই বন্যপ্রাণী নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়ে আসছে। ১৯৬৩ সালে এনবিসি ওয়াইল্ড কিংডমের আত্মপ্রকাশ করে, প্রাণীবিদ মার্লিন পার্কিন্স এই জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন। বিবিসি (যুক্তরাজ্য) -এর ন্যাচারাল হিস্ট্রি ইউনিট, লুক নামে একটি টিভি শো শুরু করেন। এ যাত্রায় বিবিসিকে পথিকৃৎ অলা যেতে পারে। স্যার পিটার স্কট এর উপস্থাপনায়, স্টুডিও তে পোকামাকড় বিষয়ক এই শোটি ঐ সময়ে দারুন জনপ্রিয়তা পায়। ডেভিড অ্যাটেনবারো যখন এই সিরিজে প্রথম আসেন, তখন একই সাথে যু কোয়েস্ট সিরিজটি শুরু হয়। সেই সময় তিনি এবং তার ক্যামেরাম্যান চার্লস লেগাস অনেক বিদেশী স্থানে গিয়েছিলেন অজানা বন্যপ্রাণীর সন্ধানে এবং চিত্রগ্রহণ করেছিলেন বেশ কিছু বিখ্যাত ছবি, যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ইন্দোনেশিয়ায় কোমোডো ড্রাগন Komodo dragon এবং মাদাগাস্কারে লেমুরস। ১৯৮৪ সাল থেকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিসকভারি চ্যানেল এবং তার অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট, টেলিভিশানের প্রচারে একচেটিয়া রাজত্ব করে। অন্যদিকে পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস হিসাবে, ডব্লিউএনইটি-১৩ এর আয়োজনে নেচার- নিউইয়র্কে, ডাব্লুজিবিএইচ দ্বারা তৈরি নোভা বস্টিনে সম্প্রচার চালিয়েছিল। ওয়াইল্ড লাইফ চ্যানেল গুলো এখন যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, জাপান এবং কানাডা সহ অনেক দেশে এক একটি মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের শিল্প প্রতিষ্ঠান।


Новое сообщение